RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-02-25 21:25:43 BdST
উচ্চ রক্তচাপ জব্দ করতে ওষুধের বদলে ইঞ্জেকশন: নতুন পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা
ডেস্ক/‘দ্য ল্যানসেট’
__________________________
রক্তচাপ কেন বাড়ছে, তা নিয়ে মনের উপরেও চাপ বাড়ছে দিন দিন। ঘরে ঘরে উচ্চ রক্তচাপের রোগী। বয়স চল্লিশ পেরোলে আর কথাই নেই, রক্তচাপ যেন বশেই থাকছে না। দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত চাপ, রোজের টানাপড়েনে রক্তচাপ যখন-তখন বেড়ে যেতে পারে। আর তা বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেলেই হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজ নিয়ম করে ওষুধ খেতেই হয়। তবে যদি রোজ ওষুধ না খেয়েও রক্তচাপ বশে রাখা যায়, তা হলে কেমন হয়? না, কোনও ঘরোয়া টোটকা নয়, উচ্চ রক্তচাপ পাকাপাকি ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের বদলে ইঞ্জেকশন নিয়ে আসছেন চিকিৎসকেরা। বছরে মাত্র দু’টি ডোজ়েই নাকি কাজ হবে। তবে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। পুরোটাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে।
‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে এই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লির ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওষুধের বদলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ইঞ্জেকশন থেরাপিই বেশি কার্যকর হতে পারে। একটি ডোজ় নিলে অন্তত মাস ছয়েক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আলাদা করে ওষুধ খেতে হবে না। অর্থাৎ, বছরে মাত্র দু'টি ডোজ় নিলেই সারা বছর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।
জিলবেসিরান নামক এক প্রকার মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চলছে। জানা গিয়েছে, এটি শরীরে প্রয়োগ করলে প্রদাহ কমবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলির ভারসাম্য বজায় থাকবে। ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকিও কমবে। রক্তচাপের ইঞ্জেকশনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, যাঁদের ইঞ্জেকশনটি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মাস তিনেক রক্তচাপের হেরফের ঘটেনি।
৮০-৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বা ‘এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। প্রাকৃতিক নিয়মেই নির্দিষ্ট বয়সের পরে রক্তচাপ একটু বেশির দিকে থাকে। তবে সেটা নিয়ন্ত্রণসীমা পার করলেই সমস্যা। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে কোনও সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১৩০/ ৮০। বয়স-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্যই এটা প্রযোজ্য। সেই মাপ ১৩০-এর বদলে ১৪০ হলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু তার বেশি হলে চিন্তার বিষয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, যাঁদের রক্তচাপ এর চেয়ে বেশি এবং হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে, তাঁদের দেওয়া যেতে পারে এই ইঞ্জেকশন। তবে আরও বহু জনের উপর ট্রায়ালের পরেই এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
সৌজন্যে আনন্দবাজার পত্রিকা
আপনার মতামত দিন:
